• জাতীয়

    ‘ভবিষ্যৎ আপনাদের, দেশ গড়ার নেতৃত্বও আপনাদের নিতে হবে’

      RBCNews24.com 13 May 2026 , 7:46:24 প্রিন্ট সংস্করণ

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ বর্তমান তরুণ প্রজন্মের হাতে। অতীতের ব্যর্থতা নিয়ে পড়ে না থেকে ভবিষ্যৎ নির্মাণে শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, আমি যতটা বলতে চাই, তার চেয়ে বেশি আমি শিক্ষার্থীদের কথা শুনতে চাই। ভবিষ্যৎ আপনাদের; দেশকে এগিয়ে নিতে আপনাদেরই নেতৃত্ব দিতে হবে।

    মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সামাজিক বিজ্ঞান ভবনের অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

    মতবিনিময়কালে শিক্ষার্থীরা আবাসন সংকট, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ও হলের রিডিং রুমে আসনসংকট, সরকারি চাকরিতে অনিয়ম, গবেষণায় সীমাবদ্ধতা, শিল্প-একাডেমিয়া সহযোগিতা, ভাষাশিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্প, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল শিল্পের বিকাশসহ নানা বিষয়ে প্রশ্ন করেন। এসব প্রশ্নের খোলামেলা উত্তর দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, অপচয় ও অনিয়ম দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করেছে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, বড় বড় প্রকল্পে অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা শেষ পর্যন্ত জনগণের ওপরই পড়ে। এই বাস্তবতায় রাষ্ট্রের সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে তিনি দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক সচেতনতা ও মানসিকতার পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞান নয়, ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনেও গুরুত্ব দিতে হবে। এ লক্ষ্যে সরকার বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে ইন্টার্নশিপ, অ্যাপ্রেন্টিসশিপ এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি জানান, শিক্ষার্থীরা যেন পড়াশোনার পাশাপাশি বাস্তব কর্মপরিবেশ সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারে, সে জন্য নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে।

    গবেষণা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আন্তর্জাতিক র‌্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে থাকার অন্যতম কারণ গবেষণা ও মানসম্মত শিক্ষক নিয়োগে ঘাটতি। মেধা ও একাডেমিক যোগ্যতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষক নিয়োগ এবং গবেষণা সংস্কৃতি জোরদারের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাইদের গবেষণা ও উদ্ভাবনে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

    শিক্ষার্থীদের ভাষা শিক্ষা সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার স্কুল পর্যায় থেকেই তৃতীয় ভাষা শিক্ষা চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে। ইংরেজির পাশাপাশি চীনা, জাপানি, ফরাসি, জার্মানসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ভাষা শিক্ষার সুযোগ তৈরি করা হবে। তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ কর্মবাজারে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে ভাষা শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    তিনি আরও বলেন, সংস্কৃতি, খেলাধুলা ও সৃজনশীল চর্চাকে শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে স্কুল পর্যায় থেকেই ভাষা, সংস্কৃতি, খেলাধুলা ও কারিগরি দক্ষতার সমন্বয়ে একটি বহুমাত্রিক শিক্ষা কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি।

    স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর জন্য টেকসই স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও তিনি জানান।

    দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তরুণদের স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ভূমিকম্পসহ বিভিন্ন দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক তৈরিতে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্পৃক্ত করার বিষয়েও সরকার কাজ করছে।

    অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা গবেষণার জন্য আন্তর্জাতিক ডাটাবেজে প্রবেশাধিকার, ভাষাভিত্তিক বিষয়সমূহে সরকারি চাকরিতে কোড অন্তর্ভুক্তি, সৃজনশীল শিল্পের বিকাশ এবং জাদুঘর ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে নতুন বিভাগ চালুর দাবি জানান। প্রধানমন্ত্রী এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় নীতিগত উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।

    অনুষ্ঠানের প্রধান সমন্বয়কারী ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ও সাদা দলের আহ্বায়ক ড. মোর্শেদ হাসান খান। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহাদী আলম-সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাবৃন্দ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, শিক্ষক এবং সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মকর্তাবৃন্দ। সঞ্চালনা করেন জাপানিজ স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ্ আল মামুন।

    অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম ও মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক এবং সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান প্রধানমন্ত্রীর হাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শুভেচ্ছা স্মারক তুলে দেন।

    অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় একটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ উদ্যোগ, যা দেশের উচ্চশিক্ষা ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    উপাচার্য বলেন, ভাষা আন্দোলন, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ, নব্বইয়ের গণ-আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানসহ দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক ও জাতীয় আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। একইসঙ্গে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।

    তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া অতীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছিলেন। তাঁদের ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এ আগমন ইতিহাসে একটি অনন্য সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হবে।

    অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান মেধাবী শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘হিজবুল বাহার’ কর্মসূচির আয়োজন করেছিলেন এবং শিক্ষার্থীদের চিন্তা, পরামর্শ ও মেধাকে জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী যে উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করছেন, আজকের এই মতবিনিময় অনুষ্ঠান সেই লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

    উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শিক্ষার্থীদের মতো শিক্ষকদের সঙ্গেও একটি পৃথক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষকবৃন্দ তাঁদের অভিজ্ঞতা ও মতামতের মাধ্যমে দেশ গঠনের কার্যক্রমে আরও কার্যকর অবদান রাখতে পারবেন।

    ধন্যবাদ জানান অনুষ্ঠানের প্রধান সমন্বয়কারী এবং সাদা দল-এর আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান। তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এমন উন্মুক্ত সংলাপ দেশের উচ্চশিক্ষা ও গণতান্ত্রিক চর্চায় নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও প্রধানমন্ত্রী দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এ ধরনের মতবিনিময়ে অংশ নেবেন।

    আরও খবর

                       

    জনপ্রিয় সংবাদ