• ক্রাইম

    এলজিইডি কর্মকর্তাকে জি/ম্মি করে ১০ লাখ টাকা চাঁ/দা দাবি, নারীসহ ৩ জন আ/টক

      RBCNews24.com 10 August 2026 , 5:55:36 প্রিন্ট সংস্করণ

    নওগাঁর মান্দায় এলজিইডি কার্যালয়ের এককার্যসহকারীকে কথিত ‘হানিট্র্যাপ’-এর মাধ্যমে জিম্মি করে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ, চাঁদা দাবি, টাকা হাতিয়ে নেওয়া এবং জোরপূর্বক চেক ও নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগে একটি ব্ল্যাকমেইলিং চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় ভুক্তভোগীর নামে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার স্বাক্ষর করা একটি চেক উদ্ধার ও জব্দ করা হয়েছে।
    গ্রেফতারকৃতরা হলেন—মান্দা উপজেলার কুসুম্বা মোড় এলাকার শ্রী কনক কুমার (৩০), কুসুম্বা দক্ষিণপাড়া এলাকার মো. সাজ্জাদ হোসেন (২৮) এবং বড়পই গ্রামের তানজিমা খাতুন (৪৪)।
    পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, তানজিমা খাতুন দীর্ঘদিন ধরে মান্দা উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ের কার্যসহকারী মো. আলমগীর হোসেনের সঙ্গে দাপ্তরিক কাজের অজুহাতে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করছিলেন। গত ৭ আগস্ট রাতে তিনি ফোন করে আলমগীরকে দেখা করার জন্য বলেন। তার কথামতো পরদিন ৮ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আলমগীর মান্দার কুসুম্বা মসজিদ এলাকায় যান।
    সেখানে পৌঁছানোর পর তানজিমার সহযোগী কনক কুমার, সাজ্জাদ হোসেনসহ কয়েকজন তাকে চা খাওয়ার কথা বলে একটি টিনশেড ঘরে নিয়ে যান। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে চা ও সিগারেটের সঙ্গে চেতনানাশক বা নেশাজাতীয় কোনো দ্রব্য খাইয়ে তাকে কাবু করা হয়। পরে পাশের একটি মাটির ঘরে নিয়ে তানজিমা খাতুনকে দিয়ে আলমগীরকে জড়িয়ে ধরানো এবং জোরপূর্বক বিবস্ত্র করে মোবাইল ফোনে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করা হয়।
    পরবর্তীতে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আলমগীরের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। একপর্যায়ে চক্রের সদস্যরা তার মানিব্যাগ থেকে নগদ ৬ হাজার ৭০০ টাকা এবং বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে আরও ৫ হাজার ২০০ টাকা নিয়ে নেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
    অভিযোগ অনুযায়ী, মান-সম্মানের ভয়ে ভুক্তভোগী ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দিতে রাজি হন। এজন্য স্বজনের মাধ্যমে ব্যাংকের চেকের বই আনানো হয়। পরে আসামিরা চাপ সৃষ্টি করে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার একটি চেক, একটি ফাঁকা চেক এবং ১০০ টাকা মূল্যমানের তিনটি ফাঁকা নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর করিয়ে নেয়।
    এরপর রোববার (৯ আগস্ট) সকাল পৌনে ১১টার দিকে চক্রের সদস্যরা অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি, সতীহাট শাখা থেকে ওই ১ লাখ ২০ হাজার টাকা উত্তোলনের জন্য যায়। বিষয়টি ভুক্তভোগী আলমগীর হোসেনের মাধ্যমে জানতে পেরে পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় মান্দা থানা পুলিশ দ্রুত ব্যাংকটিতে অভিযান পরিচালনা করে।
    অভিযানে ব্যাংক থেকে কনক কুমার ও সাজ্জাদ হোসেনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তাদের সহযোগী সুমন ও ইসরাফিল পালিয়ে যায়। পরে ব্যাংকের ক্যাশ কাউন্টার থেকে ভুক্তভোগীর জমা দেওয়া ১ লাখ ২০ হাজার টাকার চেকটি উদ্ধার ও জব্দ করে পুলিশ।
    পরবর্তীতে পরিচালিত আরেকটি অভিযানে এ ঘটনায় জড়িত তানজিমা খাতুনকেও গ্রেফতার করা হয়।
    এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কার্যসহকারী মো. আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে মান্দা থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান ও জোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
    পুলিশ জানিয়েছে, প্রতারণা, ব্ল্যাকমেইলিং, জিম্মি করে অর্থ আদায় এবং আপত্তিকর ভিডিও ধারণের মতো অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    আরও খবর

                       

    জনপ্রিয় সংবাদ