
RBCNews24.com 7 July 2026 , 4:46:18 প্রিন্ট সংস্করণ
নিজের বড় বোনের প্রতারণা এবং স্বামীর পরিত্যাগের শিকার হয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন ২৮ বছর বয়সী প্রতিবন্ধী নারী বানু আক্তার। বাবার পরিচয় ও জন্ম নিবন্ধনের অভাবে তার ১৫ বছর বয়সী ছেলে মো. পারভেজের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে মা-ছেলে আশুলিয়ার জামগড়া তেতুলতলা এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।

বানু আক্তারের গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার চুরবাদাম (পোস্ট: চোর পোড়াগাছা) গ্রামে। তার বাবা মোজাম্মেল হক এবং মা ফখরুন নেছা।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, কয়েক বছর আগে তার বড় বোন গোলাপজান বেগম (বর্তমান ঠিকানা: দোলাইখাল, ঢাকা) ঘরোয়া পরিবেশে এক মুন্সির মাধ্যমে প্রায় ৪০ বছর বয়সী ফারুক নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে তার বিয়ে দেন। বিয়ের পর মাত্র চার মাস সংসার করার পর তিনি অন্তঃসত্ত্বা হলে স্বামী ফারুক কোনো ধরনের যোগাযোগ না রেখেই পালিয়ে যান। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

পরবর্তীতে বানু আক্তার একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেন। বর্তমানে ১৫ বছর বয়সী ছেলে মো. পারভেজ বাবার পরিচয় না থাকায় জন্ম নিবন্ধন করতে পারেনি। ফলে বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হয়েছে সে। প্রয়োজনীয় নাগরিক পরিচয়পত্রের অভাবে তার ভবিষ্যৎ আজ অনিশ্চয়তার মুখে।
প্রতিবন্ধী হওয়ায় বানু আক্তারের পক্ষে নিয়মিত কাজ করা সম্ভব হয় না। অন্যদিকে পরিবারের কোনো স্থায়ী আয়ের উৎস না থাকায় মা-ছেলের জীবনযাপন দিন দিন আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ চালানোও তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে সচেতন মহলের মতে, প্রতারণার মাধ্যমে বিয়ে দেওয়া এবং অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও সন্তানকে পরিত্যাগ করার অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে জন্ম নিবন্ধন না থাকায় পারভেজ ভবিষ্যতে শিক্ষা, পাসপোর্ট, চাকরি এবং বিভিন্ন সরকারি নাগরিক সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রেও জটিলতার মুখোমুখি হতে পারে।

বানু আক্তার সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা কামনা করেছেন। পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান, মানবিক ব্যক্তি ও বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা পেলে তার ছেলে পারভেজের শিক্ষা ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার পথ সুগম হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

















